জন্ম নিবন্ধন ও আইডি কার্ড

জন্ম নিবন্ধন যাচাই কপি বের করার নিয়ম

সাধারনত আগে একটা সময় ছিলো যখন হাতে কলমে জন্ম নিবন্ধন কপি দেওয়া হত। যার ফলে যেখানেই প্রয়োজন হতো, সেই কপিটাই বছরের পর বছর ধরে ব্যবহার হয়ে আসতো। কিন্তু এখন আর সেই দিন নেই। এখন অনলাইনে শুধুমাত্র কিছু নির্দেশনা ফলো করেই জন্ম নিবন্ধন যাচাই কপি কিংবা জন্ম নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা যায়। 

 

আজকে এই নিবন্ধে জন্ম নিবন্ধন যাচাই কপি জন্ম নিবন্ধন কপি ডাউনলোড করা নিয়ে সচিত্র বিশদ আলোচনা করবো। এতে করে আপনারা জন্ম নিবন্ধন যাচাই কিংবা জন্ম নিবন্ধন অনলাইন কপি ডাউনলোড করতে আর কোন সমস্যার সম্মুখীন হবেন না।

জন্ম নিবন্ধন যাচাইকরণ/জন্ম নিবন্ধন যাচাই কপি

জন্ম নিবন্ধন যাচাইয়ের জন্য শুধুমাত্র আপনার জন্ম নিবন্ধনের নাম্বার ও জন্ম তারিখ হলেই হবে। এইগুলো দিয়েই খুব সহজে আপনি জন্ম নিবন্ধনের অনলাইন কপি যাচাই করতে পারবেন। 

 

 

যাচাইয়ের জন্য শুরুতেই আপনাকে যেতে হবে everify.bdris.gov.bd এই ওয়েবসাইটটিতে। তারপর আপনার ১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন নাম্বার এবং জন্ম তারিখটি দিতে হবে। এভাবে সার্চ করলেই পেয়ে যাবেন আপনার জন্ম নিবন্ধন অনলাইন কপি। বাংলাদেশের সকলেই তাদের জন্ম নিবন্ধন সনদ অনলাইনে দেখতে পারবে।

অনেকেই প্রথম দিকে জন্ম নিবন্ধন করে থাকবেন। তাদের জন্ম নিবন্ধনে ১৭ সংখ্যার পরিবর্তে ১৬ সংখ্যার নাম্বার থাকতো। সেই ১৬ সংখ্যার শুরুতে ০ যুক্ত করে ১৭ অংকের নাম্বারে রুপান্তরিত করতে হবে। তবে জেনে রাখা ভালো, ১৬ থেকে ১৭ অংকের নাম্বারে রুপান্তর করার কারণ হচ্ছে জনসংখ্যার ব্যাপক বিস্তার লাভ। 

 

 

অনেক আগে যখন হাতে লেখা জন্ম নিবন্ধন চালু ছিলো। তখন জন্ম নিবন্ধন নাম্বার ১৩ সংখ্যার হয়ে থাকতো। এখন সেই নাম্বারের সাথেই তাদের জন্ম সাল এড করে দিয়ে ১৭ সংখ্যার নাম্বার এ রুপান্তরিত করেছে। 

 

জন্ম নিবন্ধন যাচাই করার নিয়ম 

 

জন্ম নিবন্ধন যাচাই করার জন্য ভিজিট করতে হবে everify.bdris.gov.bd ওয়েবসাইটে। উক্ত সাইটে ভিজিট করার পর আপনি নিচের ছবিটার মত একটা ইন্টারফেস পাবেন। সেখানে আপনি নিম্নোক্ত ধাপগুলো ফলো করুনঃ 

প্রথম ধাপঃ আপনাকে প্রথমেই আপনার জন্ম নিবন্ধনের ১৭ অঙ্কের নাম্বারটি দিতে হবে। যদি ১৩ সংখ্যা থেকে থাকে তাহলে জন্মসালটি এড করে ১৭ ডিজিটে রুপান্তরিত করতে হবে।

 

দ্বিতীয় ধাপঃ পরবর্তী ধাপে জন্ম তারিখটি দিতে হবে এই ফরমেটে YYYY MM DD। 

 

তৃতীয় ধাপঃ ইউজার বা ব্যবহারকারী মানুষ কিনা সেটা যাচাই করার জন্য কোন গাণিতিক সমস্যা বা ক্যাপচা দেওয়া হয়ে থাকে। সেগুলো সল্ভ করে সার্চ বাটনে ক্লিক করতে হবে। লোড হয়ে আপনার জন্ম নিবন্ধন কপি চলে আসবে নিচের ছবিটির মত। 

এভাবেই আপনি পেয়ে যাবেন আপনার জন্ম নিবন্ধনের অনলাইন কপি। উপরের চিত্রে যেমনটা দেখতে পাচ্ছেন অনলাইন জন্ম নিবন্ধন যাচাই ওয়েবসাইটে ব্যাক্তির নাম, ঠিকানা, পিতা-মাতার নাম, লিঙ্গ এবং জাতীয়তা দেওয়া রয়েছে। এমনকি জন্ম সনদটি তৈরীর তারিখও লেখা থাকে৷ আপনি দেখতে পারবেন আপনার বয়স কত বছর, কতমাস, কতদিন হয়েছে। ইন্টারেস্টিং না?

 

তারপর আপনি আপনার কপিটি প্রিন্ট করে ব্যাবহার করতে পারবেন। আপনি যদিও আপনার আসল জন্ম নিবন্ধনটি ডাউনলোড করতে পারবেন না, তবে ভেরিফিকেশন জন্মসনদটি ডাউনলোড করতে পারবেন। 

 

কিভাবে করবেন? তাও বলে দিচ্ছি। যখন আপনি নিয়ম ফলো করে জন্ম নিবন্ধন যাচাই করে ফেলবেন তখন (Ctrl+P) চেপে প্রিন্ট কপি বা PDF সেইভ করতে পারবেন। মোবাইলেও ডাউনলোড করার জন্য চেপে ধরলে একই ভাবে PDF ডাউনলোড অপশন চলে আসবে। ডাউনলোড করে ব্যাবহার করতে পারবেন। 

 

ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন যাচাই

 

অনেক সময় জন্ম নিবন্ধন ডিজিটাল কি না তা যাচাই করতে হয়। সেক্ষেত্রে আপনি কিভাবে শিওর হবেন যদি  আপনার জন্ম নিবন্ধনটি ডিজিটাল? আপনাকে একই নিয়মে ১৭ ডিজিটের নাম্বার দিয়ে সার্চ করতে হবে, যদি সবকিছুই ঠিকঠাক থাকার পরও রেকর্ডে আসেনা, তখন বুঝতে হবে আপনার জন্ম নিবন্ধনটি ডিজিটাল নয়।

 

জন্ম নিবন্ধন সংশোধন যাচাই

 

জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের আবেদন শুধুমাত্র অনলাইনে করলেই হবে না, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রগুলো কার্যালয়ে জমা দিতে হবে। কাগজপত্র যাচাইয়ের পরই তথ্য সংশোধন করা হবে। 

 

সংশোধন হয়েছে কিনা সেটা আপনারা চ্যাক করতে পারবেন। যাচাই করতে bdris.gov.bd এই ওয়েবসাইটে যাবেন। তারপর আবেদনের ধরণ সিলেক্ট করবেন। এরপর Application ID ও জন্ম তারিখ লিখে দেখুন এ চাপ দিবেন। 

জন্ম নিবন্ধন সংশোধন কপিটি এরপর সেভ করতে পারবেন যদি সংশোধন হয়ে থাকে।

নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদন ফর্ম

 

 

নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদন একেক বয়সের শিশুদের জন্য একেক রকমের ডকুমেন্টের প্রয়োজন পড়ে। নিচে তার বয়সভেদে উল্লেখ করা হলোঃ

 

শিশুর বয়স ০ থেকে ৪৫ দিনের ভেতরে হলে,

 

১. টিকা কার্ড

২. পিতামাতার ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন কপি

৩. পিতা মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি

৪. আবেদনকারীর পিতামাতার মোবাইল নাম্বার।

৫. বর্তমান এবং স্থায়ী ঠিকানা 

 

শিশুর বয়স ৪৬ থেকে ৫ বছরের মধ্যে হলে,

 

১. টিকা কার্ড/ স্বাস্থ্য কর্মীর প্রত্যয়নপত্র

২. পিতামাতার ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন কপি

৩. পিতা মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি

৪. আবেদনকারীর পিতামাতার মোবাইল নাম্বার।

৫. বর্তমান এবং স্থায়ী ঠিকানা 

৬. আবেদন ফর্ম জমা দেওয়ার সময় ১ কপি রঙ্গিন পাসপোর্ট সাইজের ছবি।

 

৫ বছরের বেশি শিশু বা ব্যাক্তির জন্যঃ

 

১. বয়স প্রমাণের জন্য মেডিক্যাল সার্টিফিকেট

২. সরকার কতৃক পরিচালিত পিএসসি, জেএসসি বা এসএসসি সার্টিফিকেটস

৩. পিতামাতার ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন কপি

৪. পিতা মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি

৫. বর্তমান এবং স্থায়ী ঠিকানা

 

আমাদের জেনে রাখা উচিত জন্ম নিবন্ধন কি কি কাজে লাগে

 

. পাসপোর্ট ইস্যু 

২. বিবাহ নিবন্ধন

৩. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি

৪. সরকারী বা বেসরকারী চাকরীতে নিয়োগ

৫. ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু

৬. ভোটার তালিকা প্রণয়ন

৭. জমি রেজিস্ট্রেশন

৮. জমি রেজিস্ট্রেশন 

৯. ব্যাংক হিসাব খোলা

১০. আমদানী ও রপ্তানী লাইসেন্স প্রাপ্তি

১১. TIN এর জন্য

১২. ঠিকাদারি লাইসেন্স প্রাপ্তি

১৩. বাড়ির নক্সা অনুমোদন প্রাপ্তি

১৪. গাড়ির রেজিষ্ট্রেশন প্রাপ্তি

১৫. ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তি

১৬. জাতীয় পরিচয় পত্র প্রাপ্তি

 

পরিশেষে বলা যায় যে, জন্ম নিবন্ধন যাচাই কপি নিয়ে যাবতীয় খুটিনাটি বিষয়গুলো নিশ্চয় জানাতে পেরেছি। তাছাড়া অনলাইন জন্ম নিবন্ধন কপি ডাউনলোড ও করতে পারবেন। আসলে বর্তমান প্রযুক্তির যুগে নিজে থেকেই সবকিছু করে নেওয়া যায়। তআর জন্য প্রয়োজন সঠিক গাইডলাইন। আশা করি, এই নিবন্ধ আপনাদের উপকারে আসবে। আপনাদের মতামতকমেন্ট সেকশনে জানাবেন।

সম্পর্কিত আর্টিকেল

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button

Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/educarer/public_html/wp-includes/functions.php on line 5373